একেই বলে ” মা ” ; অনাথ হরিণ শাবককে বুকের দুধে বড় করেছেন এই নারি….

বহু সংস্কৃতির দেশ; বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ আর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে সংস্কৃতি। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবন ধারার মধ্যে আছে অসংখ্য বৈচিত্র্য। এমনই একটি বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায় দেশটির বৈষ্ণব ধর্ম সম্প্রদায়।

বিস্তারিত : 

ভারতের রাজস্থানে তাদের বাস। এই সম্প্রদায়ের নারীরা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ হিসেবে নিজের বাচ্চার পাশাপাশি অনাথ হরিণশিশুকেও বুকের দুধ পান করান। প্রকৃতি রক্ষাকে নিজেদের ধর্মীয় কাজের একটি অংশ মনে করেন বৈষ্ণবরা। এ কারণে হরিণসহ অন্য প্রাণিদেরও তারা দেখে থাকেন পবিত্র হিসেবে। সাধারণত আহত কিংবা অনাথ হরিণ শাবককে তুলে বাড়ি নিয়ে আসেন বৈষ্ণব নারীরা। নিজেদের ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে এদের যত্ন নেন তারা। নিজের বাচ্চার পাশাপাশি হরিণশিশুকেও বুকের দুধ পান করায় সম্প্রদায়ের নারী সদস্যরা।

বৈষ্ণব গৃহবধূ মাঙ্গি দেবী বৈষ্ণব (৪৫) বলেন, ‘এসব হরিণশিশু আমার জীবন। ওরা আমার সন্তানের মতো।’ আরেক গৃহবধূ রোশিনি বৈষ্ণব বলেন, ‘ওরা অনাথ নয়। ওরা আমাদের চারপাশেই থাকে। আমার মতো অনেক মা আছে ওদের, যারা ওদের বুকের দুধ পান করিয়ে থাকে।’
ভারতের প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো ধর্ম সম্প্রদায় বৈষ্ণবরা। বন-জঙ্গল এবং মরুময় এলাকায় বাস করে তারা। ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রাণির সঙ্গে খেলাধুলা করে বড় হয় বৈষ্ণব শিশুরা। এই সম্প্রদায়টির প্রতিষ্ঠাতা গুরু জাম্বেশ্বর। তিনি ছিলেন হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর পূজারি। জাম্বেশ্বরের মতে, সব সৃষ্টির মধ্যেই স্বর্গীয় শক্তি বিদ্যমান। গুরুর দেয়া ২৯টি নিয়ম মেনে চলে বৈষ্ণবরা। এর একটি প্রকৃতি ও প্রাণি রক্ষা, যাকে বলা হয়, ‘প্রাণ দায়া’।
প্রাণি হত্যা বন্ধে বৈষ্ণবদের আছে বিশেষ একটি বাহিনী। এর নাম ‘বৈষ্ণব টাইগার ফোর্স’। রোশিনি বৈষ্ণব বলেন, ‘আমি ওই ছোট ছোট হরিণগুলোর সাথেই বেড়ে উঠেছি। ওরা আমার ভাই বোনের মতো। ওদের সুস্থ্য থাকতে সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা ওদের সঙ্গে খেলধুলা করি। ওরা আমাদের ভাষাও বোঝে।’

তবে এই ধর্মে হিন্দুদের অন্যান্য আরাধ্য দেবতাদেরও স্বীকার করে নেয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ শিবকে বিষ্ণুর সর্বশ্রেষ্ঠ ভক্ত মনে করা হয়। ধর্মবিশ্বাস ও ধর্মানুশীলনের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ভক্তি ও ভক্তিযোগ প্রসঙ্গে বৈষ্ণব ধর্মমতের প্রধান তাত্ত্বিক ভিত্তি উপনিষদ ও বেদ এবং অন্যান্য পৌরাণিক শাস্ত্র।

উল্লেখ্য, বৈষ্ণবধর্ম মূলত হিন্দুধর্মেরই একটি শাখাসম্প্রদায়। এই সম্প্রদায়ে বিষ্ণু বা তার অবতারগণ (রাম ও কৃষ্ণ) সর্বোচ্চ ঈশ্বর রূপে পূজিত হন। এই পূজায় ঈশ্বর নারায়ণ, কৃষ্ণ, বাসুদেব বা বিষ্ণু এবং তার অবতারগণের নামে অভিহিত হন। হিন্দুধর্মের বহুদেববাদী ছায়াতলে থেকেও বৈষ্ণবধর্মে ভক্তির প্রসঙ্গে একেশ্বরবাদের ধ্বনি শোনা যায়।

(Visited 536 times, 1 visits today)

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *