আসছে নিউজিল্যান্ড সফরে বাদ পড়তে যাচ্ছেনঃ- রুবেল; তানভীর ও আল আমিন!…

[X]

মানুষের জীবন যখন-তখন যেমন-তেমনভাবে পাল্টে যেতে পারে। খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সেটি আরো বেশি। কে কখন কিভাবে উঠে যাবে বলা কঠিন’_নিজের জীবন থেকে নেওয়া অভিজ্ঞতায় খুব সহজেই এই উপসংহারে পৌঁছে যান বাংলাদেশ টেস্ট দলের বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম । অবশ্য মুদ্রার অন্য পিঠও আছে। হুট করে চূড়ায় উঠে ধপাস করে পড়ে যাওয়ার উদাহরণও তাইজুলের  আশপাশেই আছে।

বিবৃতি ঃ 
জাতীয় দলের হেড কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের অবাধ স্নেহে বাংলাদেশের টেস্ট পরিকল্পনার অপরিহার্য অংশ হতে চলা জুবায়ের হোসেনই যেমন। নেটে তাঁর বোলিং দেখে শ্রীলঙ্কান কোচের এমন মনে ধরে গিয়েছিল যে এমনকি ২০১৪-র ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও এই লেগ স্পিনারকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

সে যাত্রায় নির্বাচকরা কোনোমতে আটকালেও জুবায়ের ইস্যুতে কোচের সঙ্গে তাঁদের নিত্য বাহাস লেগেই থেকেছে।
কখনো কখনো বিক্ষিপ্ত কিছু পারফরম্যান্সে নির্বাচকদের মুখ বন্ধ করার ইঙ্গিত দিলেও নিজেরই অবহেলায় এখন আর হাতুরাসিংহের গুড বুকেও তাঁর নাম নেই। জুবায়েরের যেখানে আপাতত শেষ,

সেখানেই যেন উঠে যাওয়ার সিঁড়ি তৈরি হয়ে আছে আরেকজনের জন্য। অবশ্য জুবায়ের বিবেচনার বাইরে চলে যাওয়ায় অন্য কোনো লেগ স্পিনারকে সহসাই বাজিয়ে দেখা হবে বলে মনে হচ্ছিল না। এমন নয় যে নির্বাচকরা বিকল্প কোনো লেগির সন্ধান হেড কোচকে দেননি। চলতি মৌসুমের জাতীয় ক্রিকেট লিগে রংপুরের লেগ স্পিনার তানভীর হায়দারের নাম কোচের কাছে তাঁরা পেশও করেন।

কিন্তু দিন দিন আরো ক্ষমতাবান হয়ে উঠতে থাকা হাতুরাসিংহে তো নিজে না দেখে নির্বাচকদের কথা মেনে নেওয়ার লোক নন। তবে তাঁর দেখে নেওয়ার সে সুযোগটিও এসে যায় দ্রুতই। কিন্তু দেখলেই তো আর হয় না, মুগ্ধতাও কাড়তে হয়। কাড়তে হলে পারফর্মও করতে হয়। চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিসিবি একাদশের দ্বিতীয় দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে তানভীর বোলিংয়ে আলোও ছড়ান।

১৪ ওভার বোলিং করে ৫৩ রান খরচায় উইকেট তুলে নেন। তাও আবার তাঁর শিকারের নামগুলো শুনুন—জো রুট, জনি বেয়ারস্টো এবং জস বাটলার। কোচের সামনে এমন পারফরম্যান্সে তানভীরের ভাগ্যের দুয়ারও খুলে যায়। তাইজুলের কথানুযায়ী কে কখন উঠে যায়, তার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই।

দলসংশ্লিষ্ট নানা সূত্রের খবর, তানভীর দলীয় পরিকল্পনায় ঢুকে পড়ে উঠে পড়তে চলেছেন ডিসেম্বরে বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ডগামী ফ্লাইটেও। নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে সপ্তাহখানেকের অনুশীলন শিবিরে তো থাকছেনই। যত দূর জানা গেছে, নিউজিল্যান্ড সিরিজের বাংলাদেশ দলও চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
অচিরেই সেটি ঘোষণা করে দেওয়ার কথাও আছে। অবশ্য এবার অস্ট্রেলিয়ায় প্রস্তুতি শিবির ও নিউজিল্যান্ড সফর সামনে রেখে দলের কলেবর নিয়ে ভিন্নভাবে ভেবেছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

যে কারণে দলে খেলোয়াড়ের সংখ্যাই হয়ে যাচ্ছে ২২ জন। এমনিতে ১৫ জনেরই স্কোয়াড হবে। কিন্তু ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট দলে কিছু খেলোয়াড় অদল-বদল তো হয়ই।  নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনের সঙ্গে ধাতস্থ হওয়ার জন্য এবার সব ফরম্যাটের খেলোয়াড় একসঙ্গেই যাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডে। তাঁদের সংখ্যাটা সব মিলিয়ে ২০ জন।

সেই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ভাবনায় নবাগত দুই ক্রিকেটারকেও অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে উড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্কোয়াডের অংশ না হয়েও তাঁরা দলের সঙ্গেই থাকবেন, অনুশীলন করবেন।জাতীয় দলের পরিবেশের সঙ্গে তাঁদের অভ্যস্ত করে তুলতেই এই ব্যবস্থা। সেই দুই নবীন ক্রিকেটার হলেন গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে স্বাগতিক বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের ডেপুটি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন (শান্ত) এবং রবি পেসার হান্টের আবিষ্কার এবাদত হোসেন চৌধুরী। কাল থেকে শুরু হতে যাওয়া বিপিএলে যদি কেউ ইনজুরিতে পড়ে যান, সে জন্য

 

আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে একটি ‘স্ট্যান্ডবাই’ তালিকাও করে রাখা আছে। সেই তালিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ ২২ জনের বাইরের সেই তালিকায় ঠাঁই হয়েছে দুই পেসার রুবেল হোসেন এবং আল-আমিন হোসেনের।
তানভীরের নিউজিল্যান্ডের ফ্লাইটে উঠে যাওয়ার মতো এই খবরও কম চমকপ্রদ নয়!

(Visited 115 times, 1 visits today)

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *